প্রকাশিত : ০৫ জুন, ২০২৬ ১৭:৪৭ (শনিবার)
এবারও বিশ্বকাপ ঘরে তুলবে আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তখন আমি মাত্র ৭/৮ বছরের শিশু। খেলা খুব একটা বুঝতাম না, কিন্তু আব্বা, বড় ভাই আর চাচাতো ভাইদের সাথে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতাম। সেই সময় দেশে আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে ছিল তুমুল ক্রেজ। পরিবার থেকেই বুঝে না বুঝেই আমি হয়ে যাই আবাহনীর সাপোর্টার।

নিজেরা মাঠে খেলার সুযোগ খুব একটা না পেলেও পলিথিনে কাগজ ভরে, কখনো জাম্বুরা দিয়ে ফুটবল বানিয়ে কত লাথি মেরেছি! সেই সময়ই বিশ্বকাপ চলছিল। সব খেলা মনে নেই, কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনার সেই অবিস্মরণীয় ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আজও চোখে ভাসে। গোলটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আজও আছে, কিন্তু ছোটবেলার সেই সরল মনে ম্যারাডোনা আর আর্জেন্টিনা ঠিক বর্শার মতো গেঁথে যায় হৃদয়ে।

এরপর বয়স বাড়ে, খেলা বুঝতে শিখি, নিজেও খেলাধুলা করি। কিন্তু সমর্থন একটাই-আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনা, ক্যানিজিয়া, অর্তেগাদের যুগ পেরিয়ে অনেক চড়াই-উতরাই গেছে। তারপর দীর্ঘ ৩৬ বছর অপেক্ষার পর ২০২২ সালে মেসি নামের আরেক ‘এলিয়েন’-এর হাত ধরে আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ২০২২ সালে আমার ছেলে সাইহানের বয়স ছিল ৫ বছর। সেও ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনার সেই অতিমানবীয় ফাইনালের সাক্ষী। যেমন আমি ছোটবেলায় ম্যারাডোনা আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রেমে পড়েছিলাম, ঠিক তেমনই আমার ছেলে মেসি আর আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়ে গেল। হয়তো একেই বলে বংশগত সাপোর্টার!

আবার ৪ বছর পর, ২০২৬ সালে শুরু হচ্ছে প্রাণের ফুটবল বিশ্বকাপ। এবার অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। দলগুলো নিজেদের স্কোয়াড গুছিয়ে নিচ্ছে, চলছে প্রস্তুতি। আর এবারও ফেভারিট আমাদের আর্জেন্টিনা।

দলে আছেন বিশ্বসেরা মেসি, মার্টিনেজ, বাজপাখি এমিলিয়ানো, দে পলসহ সব বাঘা বাঘা খেলোয়াড়। আর আছেন কোচ স্কালোনি, যার ট্যাকটিকসের কাছে অনেক দলই যেন ‘7up পান্তাভাত’!

আমার বিশ্বাস, এবারও বিশ্বকাপ ঘরে তুলবে আর্জেন্টিনা। ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের প্রতি আমাদের মতো কোটি সমর্থকের ভালোবাসা আর প্রার্থনা থাকবে সবসময়।

তবে হারুক কিংবা জিতুক-

কোন দলের ধার ধারি না,
আমরা সবাই আর্জেন্টিনা।