প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬ ১৩:০৬ (শনিবার)
কানাডায় সিলেটের তরুন উদ্যোক্তা শরীফ খু/ন: ২ জনের সাজা

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ওয়েন সাউন্ড শহরে সিলেটের তরুণ উদ্যোক্তা শরীফ রহমান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা এখনো বাকি রয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) ওয়েন সাউন্ডের আদালতে যুক্তরাজ্যের নাগরিক রবার্ট ইভান্স জুনিয়র অনিচ্ছাকৃত হত্যা, অর্থাৎ ম্যানস্লটার-এর দায় স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তাঁর বাবা রবার্ট বাসবি ইভান্স এবং চাচা ব্যারি ইভান্স অপরাধে সহায়তার অভিযোগ স্বীকার করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের (১৭ আগস্ট) শরীফ রহমানের মালিকানাধীন ‘দ্য কারি হাউজ’ রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনজন। এ সময় বাধা দিলে রবার্ট ইভান্স জুনিয়রের ঘুষিতে শরীফ রহমান মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তাঁর মাথার খুলি ভেঙে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২৪ আগস্ট) তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান। পরে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে স্কটল্যান্ড থেকে তাঁদের আটক করা হয় এবং ২০২৫ সালে কানাডায় প্রত্যর্পণ করা হয়।

আদালত রায়ে রবার্ট বাসবি ইভান্স ও ব্যারি ইভান্সকে প্রত্যেককে ২১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে প্রধান অভিযুক্ত রবার্ট ইভান্স জুনিয়রের সাজা ঘোষণা করা হবে আগামী (১০ জুলাই)। এ ক্ষেত্রে তাঁর জন্য যৌথভাবে ৪২ মাসের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে।

শরীফ রহমান সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি এলাকার বাসিন্দা। তিনি জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো থেকে মাস্টার্স এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেন।

পরবর্তীতে তিনি কানাডায় স্থায়ী হয়ে ২০১৫ সালে ‘দ্য কারি হাউজ’ রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ভদ্র ও সদালাপী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জানা গেছে, তিনি নিয়মিতভাবে গৃহহীন ও দরিদ্র মানুষের জন্য খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

এই ঘটনায় কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়।