প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬ ১৯:৫১ (রবিবার)
গোলাপগঞ্জে গৃহবধূ ঝুমকির মৃ.ত্যু হ.ত্যাকাণ্ড: পিতার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে গৃহবধূ ঝুমকি দেবের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, বরং যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে সংঘটিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন তার পিতা সন্নৎ কুমার দেব ও এলাকাবাসী।

শনিবার (৬ জুন) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে সন্নৎ কুমার দেব বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের গৌরাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ঝুমকি দেব ২০২৪ সালে ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। গত ৯ মার্চ হেতিমগঞ্জ পূর্বপাড়া গ্রামের চঞ্চল দাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী চঞ্চল দাস, তার দুই ভাই সঞ্জিত দাস ও রঞ্জিত দাস, তাদের স্ত্রী নন্দিনী দাস ও নিপা দাস জেমি এবং আত্মীয় স্বপন দাস যৌতুকের দাবিতে ঝুমকিকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কম দামের আসবাবপত্র ও স্বর্ণের চেইন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝুমকিকে নিয়মিত অপমান করা হতো। পরে চঞ্চল দাস ব্যবসা করার জন্য ঝুমকির দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এনে দেওয়ার চাপ দেন। এ দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

তিনি জানান, গত ১২ মে ঝুমকি বাবার বাড়িতে আসেন এবং ২২ মে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। ওই সময় তাকে প্রায়ই বিমর্ষ দেখা যেত। বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি স্বামীর মঙ্গলের জন্য টানা চার দিন উপবাস থেকে সাবিত্রী ব্রত পালন করেন। ২২ মে তাকে স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দিতে গেলে প্রথমবারের মতো যৌতুকের দাবি এবং মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন সন্নৎ কুমার দেব।

তিনি জানান, গত ২৪ মে দুপুরে ঝুমকি তার বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সন্ধ্যায় স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে ঝুমকির খোঁজ নিতে বলা হয় এবং পরে জানানো হয়, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের কেউ সেখানে উপস্থিত নেই।

সংবাদ সম্মেলনে সন্নৎ কুমার দেব দাবি করেন, ঝুমকির মরদেহ তার নিজ কক্ষে নয়, বরং ভাসুরের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। মরদেহের পা খাটের সঙ্গে লেগে ছিল, জিহ্বা মুখের ভেতরে ছিল, দুই হাতের কব্জিতে বাঁধার মতো চিহ্ন ছিল এবং গলায় সমান্তরাল দাগ দেখা যায়। এসব আলামত আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, যে কক্ষে মরদেহ পাওয়া যায়, সেটির দরজায় এমন ছিটকিনি ছিল যা বাইরে থেকেও খোলা ও লাগানো সম্ভব। এছাড়া কক্ষটির উপরের অংশে অন্য কক্ষে যাতায়াতের পথও ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ঝুমকির বাবা। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা গ্রহণে অনীহা দেখায়। পরে তিনি আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট অপমৃত্যু মামলার প্রতিবেদন তলব করেছেন বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সেলিম আহমদ, সালিস ব্যক্তিত্ব মাহবুবুল আলম, বাঘা ইউপি বিএনপির সভাপতি নজরুর ইসলাম কলিম, ইউপি সদস্য ফররুক আল মাহমুদ, কাদির হোসেন বাবুল, আবুল হাসনাত, আবুল কালাম, হরিপদ দেব, বুলবুল আহমদ, সেবুল আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মিজানুর রহমান প্রমুখ।