প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬ ২১:১৬ (রবিবার)
লাউয়াছড়ায় বর্জ্য অপসারণে অভিযান, জনবল সংকটে ব্যাহত রক্ষণাবেক্ষণ

ছবি: সাজু মারছিয়াং

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ক্রমবর্ধমান বর্জ্য সংকট মোকাবেলায় শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে পরিষ্কার অভিযান শুরু করেছে বন বিভাগ। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংরক্ষিত বনে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও চিপসের প্যাকেটে ভরে উঠেছে বনের মেঝে। 

এ নিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, `আমরা আজ লাউয়াছড়া বনের ময়লা পরিষ্কার করলাম। পর্যটকরা সচেতন না হলে রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।'

তিনি আরও বলেন, ‘লাউয়াছড়ার আয়তন ১,২৫০ একর, অথচ আমাদের জনবল মাত্র চারজন। রাজস্ব খাতে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। তাই পুরো বন রক্ষণাবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন। তবুও সিপিজি ও সিএমসির সহায়তায় আমরা পরিষ্কার অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ জনক দেববর্মা বলেন, ‘বনের বর্জ্য অপসারণের জন্য আমরা কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে সহায়তা চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি। বনের ভেতরের দোকানগুলো থেকেই মূলত প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। দোকানদারদের বারবার নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখতে বলা হলেও কেউ তা মানছেন না।’

তিনি আরও বলেন, বন সবসময় পরিষ্কার রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই সফলতা আসবে।

ইকো ট্যুর গাইড মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই রেঞ্জ অফিসার নিজে উপস্থিত থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দেন যেন কেউ কোনো ধরনের আবর্জনা না ফেলেন। তাঁর এই পদক্ষেপকে স্থানীয়রা সবাই স্বাগত জানাচ্ছেন।’

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাকিবুল হাসান বলেন, ‘লাউয়াছড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। কিন্তু বনের ভেতরে এত প্লাস্টিক আর পলিথিন দেখে সত্যিই মন খারাপ হয়ে যায়। বন বিভাগ পরিস্কার করছে দেখে ভালো লাগলো। তবে পর্যটকদেরও সচেতন হওয়া উচিত। আমরা যদি ময়লা না ফেলি, তাহলে এই বন অনেক বেশি সুন্দর থাকবে।’

সিলেট থেকে আসা পর্যটক তাসনিম আক্তার বলেন, ‘পরিবার নিয়ে প্রায়ই লাউয়াছড়ায় আসি। এবার এসে দেখলাম বন বিভাগের লোকজন নিজ হাতে ময়লা পরিষ্কার করছেন, দেখে ভালো লাগল। তবে বনের ভেতরে পলিথিন ও প্লাস্টিক বিক্রি বন্ধ করা দরকার। প্রশাসন যদি কঠোর হয়, তাহলেই কেবল এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।’