প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬ ১৯:০১ (সোমবার)
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, ক্ষুব্ধ মেঘালয়ের বাসিন্দারা

ছবি: সংগৃহীত

মেঘালয় ও ত্রিপুরা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মেঘালয়ের একটি গ্রামে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ত্রিপুরা সীমান্তে সিসিটিভিভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থাকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার লিংখং গ্রামের বাসিন্দারা বিএসএফের প্রস্তাবিত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। তারা দাবি করেন, সীমান্তের শূন্য রেখা (জিরো লাইন) বরাবর বেড়া নির্মাণ না করে ভেতরের দিকে নির্মাণ করা হলে পুরো গ্রামটি ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিংখং গ্রামটি সীমান্তের শূন্য রেখার ওপর অবস্থিত। গ্রামের বাড়িঘর থেকে বাংলাদেশের বাড়িঘরের দূরত্ব মাত্র কয়েক মিটার। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী সাধারণত সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া নির্মিত হলে গ্রামটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে চলে যাবে।

প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রামবাসীরা পিনুরস্লার সাব-ডিভিশনাল অফিসারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন এবং বেড়া নির্মাণের কাজ স্থগিতের দাবি জানান।

গ্রামপ্রধান রামু সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘আমরা সীমান্ত বেড়ার বিরুদ্ধে নই। তবে আমরা চাই, বেড়াটি এমনভাবে নির্মাণ করা হোক যাতে লিংখং গ্রাম ভারতের ভেতরেই থাকে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যথায় গ্রামবাসীর যাতায়াত, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবে মেঘালয়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। স্থানীয় জটিলতা ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে এর মধ্যে ৮০ কিলোমিটারেরও কম অংশ এখনো বেড়াবিহীন রয়েছে।

বিএসএফের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, লিংখং গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে একটি সীমান্ত চৌকি স্থাপন করা হয়েছে এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, লিংখং গ্রামের মতো বসতিপূর্ণ এলাকায় শূন্য রেখা বরাবর ‘সিঙ্গেল-রো’ বা এক সারির বেড়া নির্মাণের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

অন্যদিকে, ত্রিপুরা সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তজুড়ে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, মুখ্য সচিব জে কে সিনহা, ডিজিপি অনুরাগ ধানকরসহ সীমান্তবর্তী আট জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই ‘সিসিটিভিভিত্তিক সীমান্ত নিরাপত্তা মডেল’-এর আওতায় বিএসএফ ও বেসামরিক প্রশাসন যৌথভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ত্রিপুরায় সফল বাস্তবায়নের পর এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত থাকা ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।