প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬ ১৯:১৫ (সোমবার)
১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, মে মাসে বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।

রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মে মাসের মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন।

খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। মে মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে। এপ্রিল মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। তখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকায় উন্নীত করা হয়।

এরপর গত ৩১ মে আরও এক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও সেটির প্রভাব মে মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এদিকে সম্প্রতি বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পুরোপুরি বাজারে প্রতিফলিত হলে চলতি জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়তে পারে।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।