প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৮ (সোমবার)
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ চালু

ছবি: সংগৃহীত

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের প্রস্তাবের পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আপিল নিষ্পত্তিতে চলমান বিলম্ব কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলাসহ আলোচিত কয়েকটি মামলার রায় নিম্ন আদালতে ঘোষণা হলেও হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, যার ফলে বিচার কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে জনমনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমরা যেসব দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলি, তা তখনই অর্থবহ হয় যখন দ্রুত সময়ের মধ্যে তা কার্যকর হয়। বিলম্ব হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন বিশেষ ধরনের মামলা- যেমন শিশু রামিসা, আছিয়া ও রসু খাঁ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই বেঞ্চ আগামী রোববার থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, গঠিত বেঞ্চে এসব মামলার শুনানিতে কোনো ধরনের মুলতবি না চাওয়ার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আইন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের চলমান ছুটির মধ্যেও নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে, যা বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

প্রধান বিচারপতির এ উদ্যোগকে ‘মাইলফলক’ উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারকে ত্বরান্বিত করা এবং মানুষের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে ভূমিকার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু আলোচিত নয়, প্রতিটি অপরাধ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং এ ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।