প্রকাশিত : ০৮ জুন, ২০২৬ ২৩:৪৯ (মঙ্গলবার)
শ্রীমঙ্গলে পরপর দুদিন ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে  দুর্ঘটনা

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরপর দুই দিনে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় রেলওয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই স্থানে ঘটে যাওয়া পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হওয়ার পর যাত্রী নিরাপত্তা ও রেলওয়ের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (৬ জুন) জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস থেকে পড়ে এনামুল মিয়া ফাহিম (২৫) নিহত হন এবং সিয়াম (১৮) গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। এর একদিন পর রবিবার (৭ জুন) পাহাড়িকা এক্সপ্রেস থেকে পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং সামছু মিয়া (৩০) আহত হন। একই স্থানে পরপর দুটি প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুটি ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ঘটনায় মামলা নং-১৭ এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের ঘটনায় মামলা নং-১৮ দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রবিবারের ঘটনায় নিহত অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (পিবিআই) কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের ছাদে থাকা অবস্থায় গাছের ডাল, বৈদ্যুতিক তার বা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত টহল, সিসিটিভি মনিটরিং এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হলেও বাস্তবে ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। একই জায়গায় ধারাবাহিক দুর্ঘটনা ঘটায় রেলওয়ের কার্যকারিতা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কিছু যাত্রী এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন, যা দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির কারণ হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাদে ভ্রমণ শুধু গাছের ডাল বা বৈদ্যুতিক তারের ঝুঁকিই নয়, বরং হঠাৎ ব্রেক, ভারসাম্য হারানো এবং বজ্রপাতের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতির কারণও হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় রেলভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, শ্রীমঙ্গলের এই দুটি মৃত্যু শুধু দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। তারা দ্রুত নজরদারি বাড়ানো, টহল জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছাদে ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশ গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।