প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৭ (বুধবার)
মেসিময় হোক  এই বিশ্বকাপ

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল আমার খুব প্রিয়  খেলা। স্কুল জীবনে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ফুটবল খেলেছি  মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এ খেলাকে কেন্দ্র করে। ১৯৮৬ সাল তখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। তখন সবার  ঘরে টিভি নেই খেলা দেখার। তখন বিশ্বকাপ খেলা বুঝিনি তেমন। তবে অনেক ভিউ কার্ড কিনেছি ম্যারাডোনার। এছাড়া খাতার পিছনে ম্যারাডোনার ছবি থাকতো। 

দুই 
১৯৯০ সাল। পুরোদমে খেলা বুঝি। ম্যারাডোনাকে ঘিরে তখন কত স্বপ্ন। সেবার ব্রাজিল আর  আর্জেন্টিনার খেলা আজো মনে পড়ে। ব্রাজিল এর নিয়ন্ত্রণে পুরো ম্যাচ ছিলো। কিন্ত ম্যারাডোনার একটি পাস ক্যানেজিয়া কাজে লাগিয়ে ব্রাজিল ভক্তদের থমকে দিয়েছিল। কিন্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ফাইনালে জার্মানি শক্তি প্রদর্শন করে খেলে ছিলো। এখনকার মত প্রযুক্তি থাকলে আর্জেন্টিনা হারতো না। পক্ষপাতমূলক একটি পেনাল্টি দিয়ে রেফারি জার্মানিকে জয়ী করে দেন। এ বির্তকিত বিষয় আজো নাড়া দেয় ফুটবল বিশ্বে।

তিন
এরপর ১৯৯৪ সাল। ম্যারাডোনাকে ঘিরে বির্তকে শেষ হয়ে   গেলো বিশ্বকাপ। মারোডোনার অধ্যায় শেষ।শুরু হলো ব্রাজিলীয় যুগ।  রোমারিও, রিভালদো, রোনালদিনো, রোনালদো , কাফুদের স্বর্ণযুগ। ১৯৯৪ , ১৯৯৮, ২০০২ তিন বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিল। আর্জেন্টিনা যেন হারিয়ে গেলো নীল দিগন্তে। কিন্ত নক্ষত্রেরও পতন হয়। ফুটবল আকাশে নতুন সূর্য উদিত হলো- ফুটবলের   বিস্ময় বালক মেসি। আমরা মেসির মাঝে দেখি ম্যারাডোনার প্রতিচ্ছবি। বিস্ময় বালক সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিচ্ছে রেকর্ড ঘরে। ক্লাব ফুটবলে  সে অনন্য। কিন্ত বিশ্বকাপে ব্যর্থ। এ কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে ২০১৪ সালের ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা।             কিন্ত বিধিবাম। খুব কাছে গিয়েও  মেসি স্পর্শ পেলোনা বিশ্বকাপ ট্রফির। 

চার
২০১৮  বিশ্বকাপ। আবারো স্বপ্ন ভঙ্গ।  আমাদের ব্রাজিলীয় ভক্তরা নাম দিলো আর জেতে না। মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়। ২০২২ বিশ্বকাপ । প্রথম ম্যাচেই হার সৌদি আরবের সাথে। কিন্ত সত্যিকারের প্রেমিক পুরুষরা হার মানে না। প্রেম সফল হয়-জিদ ধরে। বাঁচা মরার লড়াই হতে যেন অগ্নিস্ফরণ ঘটলো। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর হাতে উঠলো আরাধ্য স্বপ্ন।  আমার বয়স যখন ৭ তখন হতে খেলা দেখা। বয়স যখন ৪৩ তখন পূর্ণ হলো স্বপ্ন। আমরা  আর্জেন্টিনা ভক্তরা প্রেমিক পুরুষ। অপেক্ষায় থাকি। দল বদল করিনা। 

পাঁচ
২০২৬ বিশ্বকাপ। এবারো স্বপ্ন বিশ্বকাপ জেতার। কারণ এখন চলছে সারা বিশ্বে  আর্জেন্টিনা যুগ। সারা বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা এক জ্বলন্ত বারুদ। আশা করি মেসির হাতে উঠবে আরেকটি বিশ্বকাপ। তারপর ফুটবল ঈশ্বরের বিদায়। 

মিহির মোহন
শিক্ষক ও কবি