প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৬ ১৭:২৭ (বুধবার)
মেসির জাদুকরী খেলায় মুগ্ধ হয়ে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করি

২০১০ সালের বিশ্বকাপ থেকে আমি নিয়মিত ফুটবল দেখা শুরু করি। আমাদের গ্রামের বাড়িতে তখন সাদা-কালো টিভি ছিল। আমাদের বাড়ির বেশির ভাগ মানুষই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করত, তাই আমিও তাল মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করতাম। সেই তাল মেলানো থেকেই একজনকে আবিষ্কার করলাম, নাম লিওনেল মেসি। ছোটবেলা থেকেই খেলা দেখার প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। মেসি সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। মেসির জাদুকরী খেলায় মুগ্ধ হয়েই মূলত আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা শুরু করি।

 

২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপে মেসির জাদু দেখতে পেলেও বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি আমাদের প্রিয় মেসি।

২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর দুইবার হার। আর্জেন্টিনা ও মেসি-ভক্তরা আবারও আশাহত হয়।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার স্মৃতি আমাকে সবচেয়ে বেশি বিষণ্ন করেছিল। তখন আমার এসএসসি পরীক্ষা চলছিল। পরিবার থেকে পড়াশোনার চাপ ছিল। রঙিন টিভিতে খেলা দেখার জন্য আমি মাকে না জানিয়ে মামার বাড়িতে এক কাপড়ে চলে যাই। ভোরে খেলা ছিল। মেসি পেনাল্টি মিস করে, আর্জেন্টিনা আবারও হারে। আমাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। হারের পর কান্নাভেজা চোখ আর মন খারাপ নিয়ে বাড়িতে ফিরি। কিশোর বয়সে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যে কত কঠিন!

তারপর ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা একটি নড়বড়ে দল নিয়ে নকআউট পর্ব থেকেই বাদ পড়ে। আমাদের ভীষণ হতাশ করে।

কিন্তু ফুটবল যাদুকর মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল দল আমাদের বেশিদিন হতাশ রাখেনি। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হয়। তারপর আমরা জয়রথে চলতে শুরু করি। এখন পর্যন্ত আমরা সব বড় টুর্নামেন্টেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।

 

২০২২ সালের বিশ্বকাপ আমাদের জীবনের এক মধুর স্মৃতি। আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত। মনে হয়েছিল, মুকুট তার প্রকৃত রাজার মাথায় স্থান পেয়েছে। জয়ের মুহূর্তে আমি সেদিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে কান্না করেছি, “ভামোস আর্জেন্টিনা” বলে চিৎকার করেছি, মিছিলে অংশ নিয়েছি।

আধুনিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা এক শক্তিশালী দলের নাম। গত ২৬ বছরে একমাত্র আর্জেন্টিনাই সর্বোচ্চবার বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে। তাই আমি মনে করি, অপ্রতিরোধ্য আর্জেন্টিনা তাদের জয়রথ অব্যাহত রাখবে, ২০২৬ বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনাই জিতবে। অজেয় মেসি গড়বে আরও এক নতুন ইতিহাস।

 

- সন্দীপ দাস, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা সংসদ।