প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৬ ২২:২৯ (বুধবার)
চলতি বছর হচ্ছে না তিন স্তরের নির্বাচন, শেষ দিকে শুরু হতে পারে ইউপি ভোট

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন স্তরের নির্বাচন- সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ- চলতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন চলতি বছরের শেষভাগে শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থান যাচাইয়ের জন্য সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ‘টেস্ট কেস’ বা পরীক্ষামূলক নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করছে। ক্ষমতায় আসার পর এই নির্বাচন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী এবং মেয়াদোত্তীর্ণ। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক শাখাগুলোও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের বা দাপ্তরিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে নির্দেশনা এলেই দ্রুত প্রস্তুতি শুরু করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কোনো নীতিগত আলোচনা হয়নি। সরকার নির্দেশনা দিলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জুলাই-আগস্ট মাসে শুরু হতে পারে।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলেও বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল হাড্ডাহাড্ডি। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক হিসাব-নিকাশ চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে না থাকলেও নির্দলীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাধ্যমে মাঠে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কাজ করছে।

এ কারণে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আপাতত পিছিয়ে দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে শুরু করার চিন্তা করছে সরকার।

সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে সরকারের সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত এমন ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। সেই ভোটের ফলাফল সন্তোষজনক হলে দ্রুত দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন শুরু হবে। তবে প্রত্যাশিত ফল না এলে পরবর্তী ধাপের নির্বাচন ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পৃথক বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ করছে।

সংশোধিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় নির্বাচনের বিধান কার্যকর করতে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী ১৫ জুন খসড়া বিধিমালা ও আচরণবিধি ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সুবিধার্থে ইসি ইতোমধ্যে একটি বিশেষ নির্বাচনি ক্যালেন্ডারভিত্তিক সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে। এতে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তথ্য হালনাগাদের কাজও চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। তবে চূড়ান্ত বরাদ্দের বিষয়টি জানতে আগামী ৩০ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পাস হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাজেট অনুমোদন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হলে চলতি বছরের শেষদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।