প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৬ ১১:৪৩ (শনিবার)
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ আজ

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। এবারের বাজেটের মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা। ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আগামী এক বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর পরও ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে সোয়া লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

এবারের বাজেটে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ই হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নতুন কর্মসূচি যুক্ত করা এবং বিদ্যমান কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে। জ্বালানি তেল ও ভোজ্যতেলের উৎসে কর কমানোসহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও থাকতে পারে। ব্যবসা সহজ করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজস্ব আয়ের বড় অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে, যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত আয় ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর বহির্ভূত আয় ৬৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছানোর পর তা কমিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তারা মনে করছেন, বিশাল আকারের এই বাজেট বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কঠোর বাজার তদারকি ও সঠিক মুদ্রানীতির সমন্বয় ছাড়া কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হতে পারে।

নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে, যদিও রাজস্ব সংগ্রহ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।