ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর মধ্যকার ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন একজন রেফারি। ব্রাজিলের উইল্টন সাম্পাইয়ো যেন ম্যাচ পরিচালনার চেয়ে নিজের উপস্থিতিই বেশি জানান দিলেন। তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি এমন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, যা ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচিত হচ্ছে।
সাম্পাইয়োর ঘনঘন বাঁশি এবং কঠোর সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ম্যাচের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করেছে বলে মনে হয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তার সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথম লাল কার্ডটি নিয়ে খুব বেশি বিতর্ক না থাকলেও পরবর্তী দুটি সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিশেষ করে ভিএআর দেখে দক্ষিণ আফ্রিকার এনজোয়ানেকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনায় অনেকে মনে করছেন, আরও নমনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। একইভাবে ম্যাচের শেষ দিকে মেক্সিকোর সিজার মন্তেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোও অনেকের কাছে অতিরিক্ত কঠোর বলে মনে হয়েছে।
সাম্পাইয়োর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ নয় এটি। অতীতেও বড় বড় টুর্নামেন্টে তার ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালেও তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। অতিরিক্ত কার্ড দেখানোর প্রবণতা এবং ম্যাচকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবল মানসিকতা তাকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
এদিনও তার কঠোর চাহনি, দৃঢ় অভিব্যক্তি এবং একের পর এক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত যেন ম্যাচের মূল গল্পকে আড়াল করে দেয়। অনেক সমর্থক সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ফুটবলারদের নয়, বরং সাম্পাইয়োরই পাওয়া উচিত ছিল। কারণ ম্যাচের সবচেয়ে বেশি আলোচিত চরিত্র তিনিই।
বিশ্বকাপের মতো আসরে রেফারির দায়িত্ব হলো খেলার ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, কিন্তু কখনোই ম্যাচের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে ওঠা নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা-মেক্সিকো ম্যাচের পর প্রশ্ন উঠেছে, সাম্পাইয়ো কি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কঠোর ছিলেন? নাকি তিনি নিয়মের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চেয়েছেন?
যে উত্তরই হোক, একটি বিষয় স্পষ্ট; বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই উইল্টন সাম্পাইয়ো নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। তবে সেই আলোচনা প্রশংসার চেয়ে সমালোচনাই বেশি।