ছবি: হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণ।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) দরগাহর আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দানবাক্সে তালা দেওয়া হচ্ছে।
শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান জানান, এক মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষার জন্য ওয়াক্ফ এস্টেটকে দানবাক্সে তালা দিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
তিনি বলেন, ‘দরগাহর হিসাবে অস্বচ্ছতার কি আছে আমি বুঝি না। এখানে ফিক্সড ইনকাম নাই। এখানে টাউট বাটপারও আছে। অনেক মানুষ আসে। যে যাই দিয়ে থাকে অন্যখানেও চলে যাচ্ছে। এজন্য তো আমরা দায়ী নই। এখানে মাদ্রাসা, মসজিদ, দরগাহ তিনটি ভাগে মানুষজন দান খয়রাত করে যাচ্ছে। আমরা জোর করে নিচ্ছি না। মানত করে গবাদিপশুও দিয়ে যাচ্ছে আমরা কিছু বিক্রি করি। কিছু তারা শিরনি করে। আমাদেরওকে দান করে। এখানে অস্বচ্ছ্বতার কি আছে?’
মোতোয়াল্লি আরো বলেন, ‘বৃটিশ সরকারও চেয়েছিল দরগাহ নিয়ে নিতে। কিন্তু পারে নি। সবই আল্লাহর হুকুম।’
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এমনকি বিদেশ থেকেও অসংখ্য মানুষ সিলেটের শাহজালাল (রঃ) দরগাহে আসেন। কেউ প্রার্থনা করতে, কেউ মানত পূরণ করতে এবং কেউবা মানসিক শান্তির আশায় দান করেন অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী।
পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনার পর সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সিটি করপোরেশন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় দরগাহর আয়-ব্যয়ের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নিয়মিত অডিট এবং নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় ব্যবস্থাপনার বিষয়েও মতামত দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া পূর্ববর্তী হিসাবকে আংশিক অস্বচ্ছ হিসেবে উল্লেখ করে আরও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী এক মাস জেলা প্রশাসন ও ওয়াক্ফ এস্টেটের সমন্বয়ে দরগাহর আয়-ব্যয়ের হিসাব যৌথভাবে যাচাই করা হবে। এ সময় দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।