প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৬ ২৩:৪৩ (শনিবার)
৪ বছর আগেও ভাবতে পারিনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ান হয়ে খেলা দেখতে বসবো

ছবি: সংগৃহীত

আবারো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ান হয়ে খেলা দেখতে বসবো ভাবতে পারিনি ৪ বছর আগেও। রোজারিওর ছেলের অমরত্ব লাভের রাতে মুহূর্তে সব গল্প পালটে যাবার প্লটে যে ক্লান্তিটুকু মিশে আছে তার রেশ এখনো কাটেনি।

নিজের ৬ বছরের ছেলেটাকে দেখি আর বাবার কাছ থেকে শেখা ম্যারাডোনা ভক্ত ৬ বছরের আমার কথা ভাবি। ৯০ এ পশ্চিম জার্মানি বাংলার ভোর রাতে অযাচিত পেনাল্টিতে ম্যারাডোনাকে হারালো। পরেরদিন ক্লাসে গিয়ে সেই গোল দেখার দুর্ভাগ্য গর্বের সাথে রসিয়ে বলার মাঝের কষ্টটা আজো যেন টের পাই। ছেলে আমার মেসিকে চিনেছে, কিন্তু আর্জেন্টিনা নামের সিন্দাবাদের ভুতকে হয়তো বোঝেনা। না চিনুক, মনে প্রাণে ফুটবল ভালোবাসুক। শুধু ফুটবল কেন? খেলা ও তার খেলোয়াড়, সবাইকে ভালোবাসুক। 

কলোনির রাস্তায় খেলতে যেতাম যখন, তখন মাকে বলতাম রুড গুলিতের মতন চুল উড়ছে। খেলার মাঝে আর শেষে ছোট বড় সহশিল্পীদের বড় আপন মনে হতো। ফুটবলটাকে মনে হত তখন প্রধান খেলা। ব্যাডমিন্টন, গোল্লাছুট, ক্রিকেট সিজনাল। ওসব না খেললেও চলে। কিশোর আমি তখন নিজেকে স্ট্রাইকার ভাবি। ম্যারাডোনার মতন পারতাম না, তবে কালে ভদ্রে দুটো কসরত দেখাতে পারলে আপন ভাবনার সময় ওসব হতো আনন্দের ক্ষন। 

৯৪ এ ম্যারাডোনা সকলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপ ছেড়ে গেলেন। আর শুরু হল আর্জেন্টিনার কান্নার ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসকে ইতি ঘটাতেই যেন ফুটবল ঈশ্বর গল্পে গেঁথেছিলেন আরেক রাজকুমার মেসি!

আমি তখন কলেজ পাড় হয়ে ভার্সিটির আনন্দে ব্যস্ত। ফাঁকে ফাঁকে হলের টিভিরুম থেকে হই হই শুনে একদিন উপস্থিত হই বার্সেলোনার মাঠে। পরিচিত হই খুঁজতে থাকা ম্যারাডোনার সাথে। আর্জেন্টিনা প্রেমের কঠিন সব দিনগুলির মাঝে এক টুকরো মেঘের ছায়া যেন। দেখতে দেখতে ২০১৪। মেসি আর সাবেলার দলকে মনে হতে লাগলো একটা বিনি সুতোর মালা গাঁথার কাজ করে ফেলেছে। ফলও পেলাম। কিন্তু ২৮ বছর পর তীরে এসে তরী ডুবে গেল। 

মেসির বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে থাকা মুহূর্তটা তাকে এই অমরত্ব পাইয়ে দেবার সংকল্প যেন আমাদের মত ভক্তদেরও পেয়ে বসেছিল সেই রাতে। এরপরের কোপা হারলাম কয়েকবার। মেসি হাল ছেড়ে দিল, আমরা ছাড়িনি। একটা যাদুর কাঠির অপেক্ষায় ছিলাম। অজান্তে আর অবহেলায় যেন পেয়েও গেলাম। স্কালনি। 

মানুষ বাঁচে এমন এক অমরত্বের আশায় যা সে দেখে যাবে বলে আশা করে না। তেমনি ৩২ বছরের অপেক্ষার এই অমরত্ব দেখে যাবার মাহেন্দ্রক্ষন অচিরেই ধরা দেবে ভাবনাটা সহজ ছিল না। কিন্তু মেসি আর তার দল কাজটা করে দেখিয়েছে। আমার ফুটবল অনুরাগী, আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ভক্ত মন আজ সব পাওয়ার আনন্দে ভরা। এবার তাই বিশ্বকাপ দেখবো নির্ভার হয়ে। আবারো যদি আমার দল পৌঁছে যায় তার লক্ষ্যে তাহলে ওটা হবে বাড়তি পাওনা। আর অন্য কারো গল্পের পালক যদি হয় এবারের অমরত্বের কাপ, তাকে অগ্রীম শুভেচ্ছা।