প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ ২০:৩৩ (রবিবার)
এক এডিসিকে ২৪ দিনে তিনবার বদলি

ছবি: মাহমুদা বেগম।

নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগমকে মাত্র ২৪ দিনের ব্যবধানে তিনবার বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুও তাকে পদে রাখতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র মতে, গত ২৫ দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাহমুদা বেগমকে তিন দফা বদলির আদেশ জারি করে। তার এই ধারাবাহিক বদলির পেছনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ারের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

৩০তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মনোয়ার ২০২৪ সালের ২১ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ৩৫৯ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেক বিতরণে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) মামলার অ্যাওয়ার্ড বই প্রস্তুত করেন মোস্তফা মনোয়ার। এর মধ্যে ১৫ নম্বর এলএ কেসে ২৪০ কোটি টাকা, ১৪ নম্বর এলএ কেসে ৪৮ কোটি টাকা এবং ১০ নম্বর এলএ কেসে ৭১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হয়। মোট ৩৫৯ কোটি টাকার এসব ক্ষতিপূরণ প্রদানে আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ তদন্ত করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে শুরু হওয়া এই তদন্তে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও জমির পূর্বাবস্থার ভিডিও সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসচিব মো. মোস্তফা মনোয়ার। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই সত্য নয়। আমি সবসময় নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করেছি। কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের প্রমাণ দেখাতে পারবে না।’

জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বিল পরিশোধের বিপরীতে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।’