প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ ২১:৫৬ (রবিবার)
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ শিগগিরই

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত হলেও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থীর ফলাফলের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে ফল প্রকাশের আগে চলছে শেষ ধাপের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে। ফল প্রকাশের আগে যাতে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি না থাকে, সেজন্য তথ্যগুলো একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

ডিপিইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ অধিদপ্তরের নিয়মিত নানা কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে ফল প্রস্তুতের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ফল প্রকাশ করা হবে।

ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ফল জানতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) ছাড়াও মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে।

গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সারা দেশে একযোগে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল।

এবার সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ বা ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয় থেকে।

মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা সমান রাখা হবে। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী বৃত্তির সুযোগ পাবে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’- এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে।

ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে নির্বাচিত ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে। এছাড়া উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা অতিরিক্ত ভাতার ব্যবস্থাও থাকবে।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত টানা তিন বছর এ বৃত্তির সুবিধা ভোগ করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পাবে।