প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৬ ২০:৪৯ (সোমবার)
অপচিকিৎসা ও অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত

অপচিকিৎসা রোধ এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রণীত ‘টেলিমেডিসিন গাইডলাইন’ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় বাস্তবায়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৪ জুন) রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ৭ জুন বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং দেবাশীষ রায় চৌধুরী-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও চারজন চিকিৎসকের যৌথ উদ্যোগে দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।

আদালত স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএমডিসির রেজিস্ট্রার, দেশের সব জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও ড্রাগ সুপারিনটেন্ডেন্টদের।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ আবু মুসা মোহাম্মদ আরিফ। এ সময় আইনজীবী মো. আব্দুস সালাম রিংকু, মো. তানভীর হাসান রিয়াদ ও আব্দুর রশীদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

জনস্বার্থে দায়ের করা রিটে আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন ‘বিপিডিএ হেলথ এডুকেশন ট্রেনিং অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান মো. রাকিবুল ইসলাম এবং চিকিৎসক মো. তাওহিদুল ইসলাম, মো. মুরাদুন্নবী, শামীমা আক্তার ও মান্না চক্রবর্তী মুন।

রিট আবেদনে বলা হয়, বিএমডিসি ২০২০ সালে দেশে ডিজিটাল ও দূরবর্তী চিকিৎসাসেবা সুশৃঙ্খল করতে একটি আধুনিক ‘টেলিমেডিসিন গাইডলাইন’ প্রণয়ন করে। তবে দীর্ঘদিনেও এটি মাঠপর্যায়ে পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপচিকিৎসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

আইনজীবীদের মতে, গাইডলাইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রবণতা কমবে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য বিদ্যমান ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।

তারা আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টেলিমেডিসিন সেবা কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।