প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৬ ২১:৪২ (সোমবার)
বিশ্বকাপ ট্রফির স্পর্শহীন দীর্ঘশ্বাস ডাচ ফুটবল কি এবার শিরোপার দেখা পাবে?

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল কখনো কখনো সংখ্যার খেলা, আবার কখনো আবেগের। কখনো অ্যালগরিদমের হিসাব মিলে যায়, কখনো ভেঙে পড়ে সমস্ত গাণিতিক পূর্বাভাস। কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই নেদারল্যান্ডসের গল্প যেন অন্যরকম এক অপেক্ষার নাম; অসাধারণ প্রতিভা, নান্দনিক ফুটবল, অথচ ট্রফির স্পর্শহীন এক দীর্ঘশ্বাস।

রোববার (১৪ জুন) বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে ডাচরা। নিউইয়র্কের আলোঝলমলে মঞ্চে যখন বাঁশি বাজবে, তখন শুধু একটি ম্যাচই শুরু হবে না; শুরু হবে কমলারঙা স্বপ্নের আরেকটি অধ্যায়।

এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামছে নেদারল্যান্ডস। সেই বিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জার্মান অর্থনীতিবিদ ও গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্টের। তার গাণিতিক মডেল বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি উঠবে ডাচদের হাতেই। আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, তার একই অ্যালগরিদম ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও সঠিকভাবে করেছিল।

তাই ডাচ সমর্থকদের চোখে এখন আশার আলো। তবে ফুটবল ইতিহাস তাদের শিখিয়েছে, ফাইনালের খুব কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গ হতে পারে।

১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০-তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল। তিনবারই শেষ ধাপে এসে থেমে গেছে নেদারল্যান্ডস। তাই এবার তাদের সামনে শুধু প্রতিপক্ষকে হারানোর চ্যালেঞ্জ নয়, ভাঙতে হবে ইতিহাসের অভিশাপও।

কোচ রোলাল্ড কোম্যন সেই লক্ষ্যেই গড়েছেন ২৬ সদস্যের দল। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফিরেছেন দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেম্ফিসডিপাই। জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৫ গোল করা এই ফরোয়ার্ড পুরোপুরি ফিট না হলেও বিকল্প হিসেবে রয়েছেন রোমার ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন।

দলে ফিরেছেন আরেক পরিচিত নাম  জাস্টিন ক্লাইভার্ট। ডাচ কিংবদন্তি প্যাট্রিক ক্লাইভার্টের ছেলে-এর ছেলে হাঁটুর অস্ত্রোপচার শেষে আবার জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। স্কোয়াডে নতুন মুখ হিসেবে রয়েছেন ওয়েস্ট হামের উইঙ্গার ক্রিসেনসিও সামারভিল।

রক্ষণভাগের দায়িত্ব থাকবে ভার্জিল ফন ডাইক-এর কাঁধে। লিভারপুল তারকার নেতৃত্বে ডাচ ডিফেন্সকে ধরা হচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে। তবে মিডফিল্ডার জাভি সিমন্সের চোট দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

গ্রুপ ‘এফ’-এ থাকা নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে থাকা ডাচরা বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে।

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচেও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তারা। ৮ জুন উজবেকিস্তানকে ২-১ গোলে হারানো ম্যাচে জোড়া পেনাল্টি গোল করেন কোডি গাকপো। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রেখেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন জুরিন টিম্বার।

আজ জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ডাচদের সামনে প্রশ্ন একটাই; এবার কি সত্যিই পূর্ণতা পাবে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা?

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নেদারল্যান্ডস যেন এক অপূর্ণ কবিতা। সৌন্দর্য আছে, সুর আছে, আছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত; নেই শুধু শেষের বিজয়োল্লাস। জোয়াকিম ক্লেমেন্টের অ্যালগরিদম হয়তো ডাচদের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছে আগেভাগেই। কিন্তু ফুটবল জানে, বিশ্বকাপ জেতা যায় না সমীকরণে, জেতা যায় মাঠে।

সেই পরীক্ষার প্রথম অধ্যায় আজ। আর কমলারঙা জনতার বিশ্বাস; হয়তো এবার অপেক্ষার শেষ হবে। হয়তো তিনটি হারানো ফাইনালের কান্না মুছে গিয়ে ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে এক নতুন গল্প। কমলারঙা স্বপ্নের গল্প।

নেদারল্যান্ডসের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: বার্ট ভারব্রুগেন (ব্রাইটন), রবিন রুফস (সান্ডারল্যান্ড), মার্ক ফ্লেকেন (বায়ার লেভারকুসেন)।

ডিফেন্ডার: ইউরিয়েন টিম্বার্স (আর্সেনাল), মিকি ফন ডে ভেন (টটেনহাম), ভার্জিল ফন ডাইক (লিভারপুল), নাথান আকে (ম্যানচেস্টার সিটি), ইয়োরেল হাটো (চেলসি), ডেনজেল ডামফ্রিস (ইন্টার মিলান), ইয়ান পল ফন হেকা (ব্রাইটন)।

মিডফিল্ডার: রায়ান,গ্রাভেনবার্চ (লিভারপুল), তিজানি রেইন্ডার্স (ম্যানচেস্টার সিটি), ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং (বার্সেলোনা), তেউন কুপমেইনার্স (জুভেন্টাস), মার্টেন ডি রুন (আতালান্তা), কুইন্টেন টিম্বার্স (মার্সেই), গুস তিল (পিএসভি আইন্দহোভেন), ম্যাটস ভাইফার (ব্রাইটন)।

ফরোয়ার্ড: ব্রায়ান ব্রোবি (সান্ডারল্যান্ড), মেম্ফিস ডিপাই (করিন্থিয়ানস), কোডি গাকপো (লিভারপুল), জাস্টিন ক্লাইভার্ট (বোর্নমাউথ), নোয়া ল্যাং (গালাতাসারাই), ডনিয়েল মালেন (রোমা), ক্রিসেনসিও সামারভিল (ওয়েস্ট হ্যাম), ভাউট ভেগহোর্স্ট (আয়াক্স)।