প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ ০১:১৬ (সোমবার)
অভিষিক্ত কুরাসাওকে উড়িয়ে ব্রাজিল-স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি

অভিষেক ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে গোল করে উল্লাস (ছবি: সংগৃহীত)

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো পা রেখেছিল কুরাসাও। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির জন্য দিনটি ছিল ইতিহাসের অংশ হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্নময় অভিষেক শেষ পর্যন্ত রূপ নিল কঠিন এক বাস্তবতায়। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে ৭–১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে কুরাসাও।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ষষ্ঠ মিনিটেই ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে কুরাসাও হার মানার দল নয়, সেটি তারা দেখিয়ে দেয় ২১ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে উঠে এসে লিভানো কোমেনেনসিয়া জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেন।

সেই মুহূর্তটি হয়তো কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে গোল; এ অর্জন ছোট নয়। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

৩৮ মিনিটে নিকো শ্লটারবেকের হেডে আবার এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেন কাই হাভার্টজ। ৩–১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কুরাসাও।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন গোলবন্যা বইয়ে দেয় জার্মানি। জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন, ডেনিজ উনদাভ এবং কাই হাভার্টজ আরও চারবার কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠান। শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭–১।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, জার্মানির সাত গোলের ছয়টি এসেছে ছয় ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। শেষ গোলটি করে হাভার্টজ নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্কোরলাইন দেখে অনেকেরই মনে পড়ে যায় ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জার্মানির বিখ্যাত ৭–১ জয়ের স্মৃতি।

তবে এই হার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নয়, এমনকি অভিষেক ম্যাচেও নয়। বিশ্বকাপ অভিষেকে সবচেয়ে বেশি গোল খাওয়ার রেকর্ড এখনও এল সালভাদরের দখলে। ১৯৮২ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা হাঙ্গেরির কাছে ১০–১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেই ম্যাচটি এখনও বিশ্বকাপের এক ম্যাচে কোনো দলের সবচেয়ে বেশি গোল হজমের রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে কোনো দলের করা সর্বোচ্চ ১০ গোলের রেকর্ডও সেটিই।

অভিষেক ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের তালিকায় কুরাসাওয়ের আগে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াও। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হাঙ্গেরির কাছে ৯–০ গোলে হেরেছিল এশিয়ার দেশটি। সেই হিসাবে জার্মানির কাছে কুরাসাওয়ের ৭–১ হার বিশ্বকাপ অভিষেকের অন্যতম বড় পরাজয় হলেও রেকর্ড নয়।

তবু পরাজয়ের মাঝেও কুরাসাওয়ের জন্য কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া দলটি নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গোল করেছে এবং সাহসী ফুটবল খেলেছে। কোচ ডিক অ্যাডভোকাট ম্যাচের আগে বলেছিলেন, তাঁর দল জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে চায়। যদিও ফলাফলে সেটির প্রতিফলন দেখা যায়নি, তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম পদচারণার অভিজ্ঞতা কুরাসাওয়ের জন্য ভবিষ্যতের পথচলায় মূল্যবান হয়ে থাকবে।

স্বপ্নের অভিষেক হয়নি, কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখিয়ে ফেলেছে কুরাসাও। আর সেই ইতিহাসের প্রথম অধ্যায়টি লেখা হলো জার্মানির কাছে ৭–১ গোলের বড় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, এটি রেকর্ড না হলেও বিশ্বকাপের অভিষেক মঞ্চে কুরাসাওয়ের জন্য এক স্মরণীয় এবং একই সঙ্গে বেদনাদায়ক রাত হয়ে থাকবে।