প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ ১৬:৪১ (মঙ্গলবার)
সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সিলেটের রাজনীতির পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম বদরউদ্দিন আহমদ কামরান আজও শহরবাসীর স্মৃতিতে অমলিন। আজ ১৫ জুন, তাঁর মৃত্যুর ছয় বছর পূর্ণ হলো। ২০২০ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। মৃত্যুর ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেটবাসীর কাছে তিনি এখনও গণমানুষের নেতা এবং জনমুখী রাজনীতিক হিসেবে স্মরণীয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২০ সালের ৫ জুন তাঁর শরীরে কোভিড ১৯ শনাক্ত হয়। এর আগে ২৭ মে তাঁর স্ত্রী আসমা কামরানও কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুন তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুন ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নকালে তিনি প্রথমবার সিলেট পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে কামরান প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরের বছর অনুষ্ঠিত প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মেয়র পদে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন।

রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থানপতনের মধ্যেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০০৭ ও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় কারাগারে থেকেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি বর্তমান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়ে মেয়র পদ হারান। ২০১৮ সালেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে জয়ী হতে পারেননি।

দলীয় রাজনীতিতেও দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন কামরান। ১৯৮৯ সাল থেকে সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় দশক ওই দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন।

ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় এখনও উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। স্থানীয়দের মতে, মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, সহজ জীবনযাপন এবং দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তিনি সিলেটবাসীর স্মৃতিতে আজও জীবন্ত হয়ে আছেন।