প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ ১৯:২৩ (মঙ্গলবার)
অবশেষে অনুমোদন পেল সিলেটের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুমোদন পেয়েছে সিলেটের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা হাসপাতালটি দ্রুত চালুর আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৫ জুন) হাসপাতালটির অনুমোদনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মক্তাদির।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, `আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিলেটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে।'

তিনি আরও বলেন, `সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। সিলেটের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।'

নগরের চৌহাট্টা এলাকায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির কাজ ২০২৩ সালে শেষ হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় এতদিন চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক অবকাঠামো সমৃদ্ধ হাসপাতালটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।

গত ৩১ মে সিলেট সফরকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মক্তাদির হাসপাতালটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তিনি সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১২০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল হাসপাতালটি পরিদর্শন করে তিনি বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণ করা হলেও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর হাসপাতালটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু করে।

১৫ তলা ভবনের মধ্যে আটতলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালটিতে আইসিইউ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আউটডোর বিভাগ, কেবিন ও আধুনিক ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হবে—এ বিষয়ে দীর্ঘদিন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর দ্রুত জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে হাসপাতালটি চালু করা হবে। এতে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।