প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৬ ২০:৫১ (বুধবার)
সিলেট-সুনামগঞ্জ নৌপথে বাল্কহেডে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট ও সুনামগঞ্জের নৌপথে বাল্কহেড শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বালু, পাথর ও কয়লা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন নৌবন্দরে পরিবহন করে থাকেন বাল্কহেড শ্রমিকরা। কিন্তু নৌপথে চলাচলের সময় বিভিন্ন স্থানে তাদের চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।’

তাদের অভিযোগ, গত ১৩ জুন গোয়াইনঘাটে বালু পরিবহনের উদ্দেশ্যে শ্রমিকরা গেলে একদল ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা আলোচনার উদ্যোগ নিলে পরদিন একদল সন্ত্রাসী শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, হামলার ঘটনায় তারা গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। পরবর্তীতে নৌ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গোয়াইনঘাট থেকে ছাতক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন, ইউনিয়ন ট্যাক্স এবং বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করে বাল্কহেড শ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একই নৌযান থেকে একাধিকবার টাকা নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তারা।

শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, নৌপথের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে-বেনামে চাঁদাবাজি চললেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- গোয়াইনঘাটে দ্রুত অস্থায়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, লোড পয়েন্টগুলোতে নৌ পুলিশের টহল বৃদ্ধি, সকল ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো অর্থ আদায় বন্ধ এবং নৌপথে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তারা অভিযোগ করেন, কিছু ইজারাদার চক্রও এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে তারা কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে গোয়াইনঘাটকে নৌপথভিত্তিক ব্যবসার জন্য অনিরাপদ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার কথাও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নৌ পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।