প্রকাশিত : ১৬ জুন, ২০২৬ ২২:৩৪ (বুধবার)
বিশ্বচ্যাম্পিয়নের প্রথম পরীক্ষা, আর্জেন্টিনার সামনে আলজেরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ইতিহাস আর্জেন্টিনাকে একটি শিক্ষা বারবার মনে করিয়ে দেয়- প্রথম ম্যাচ তাদের জন্য কখনোই সহজ নয়। আরও একটি অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান আছে; শিরোপাজয়ী আর্জেন্টিনা পরবর্তী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে একাধিকবার হোঁচট খেয়েছে। এবার কি আফ্রিকার অদম্য শক্তি আলজেরিয়াকে হারিয়ে সেই ইতিহাস বদলাতে পারবে লিওনেল স্কালোনির দল?

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাত্রা শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। তারও আগে ১৯৮২ বিশ্বকাপে, ১৯৭৮ সালের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে প্রথম ম্যাচেই বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা। আবার ১৯৮৬ সালে বিশ্বজয়ের পর ১৯৯০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল ক্যামেরুন।

সেই স্মৃতিগুলো সঙ্গী করেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেভারিট হলেও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের ইতিহাস বলছে, তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ অনেক সময় মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আফ্রিকার ‘ডেজার্ট ফক্সেস’ খ্যাত আলজেরিয়া। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৭ নম্বরে থাকা দলটি হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নয়, কিন্তু বড় মঞ্চে চমক দেখানোর ইতিহাস তাদের আছে। সেই আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করে ১৯ বছর আগের একটি স্মৃতি।

২০০৭ সালের জুনে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে প্রথম ও একমাত্রবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সেদিন ছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি, কার্লোস তেভেজ, হাভিয়ের জানেত্তি, হুয়ান রোমান রিকুয়েলমে ও এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোর মতো তারকারা। তবু ম্যাচটি মোটেও একপেশে ছিল না।

আলজেরিয়া একসময় ২-১ ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মেসির জোড়া গোলের সৌজন্যে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই স্কোরলাইন আজও মনে করিয়ে দেয়, আলজেরিয়াকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে এবার আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে ভিন্ন এক মানসিকতা নিয়ে। কারণ তারা জানে, বিশ্বকাপের শুরুটা ভুল হলে তার মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের কাছে হার কিংবা ২০২২ সালে সৌদি আরবের বিপক্ষে অঘটন- দুটি ঘটনাই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

তবে ইতিহাসের আরেকটি দিকও রয়েছে। ১৯৯০ সালের সেই আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠেছিল। আর ২০২২ সালে প্রথম ম্যাচে হার দিয়েই শুরু করেও বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল মেসির দল।
তাই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়। এটি বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য নিজেদের শক্তির বার্তা দেওয়ার সুযোগ, প্রমাণ করার সুযোগ যে তারা এখনও সিংহাসনের প্রকৃত দাবিদার। অন্যদিকে আলজেরিয়ার জন্যও এটি এক বিরল সম্ভাবনা- বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় অঘটনের নায়ক হয়ে ওঠার।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলো প্রায়ই ভবিষ্যতের গল্পের আভাস দেয়। কানসাস সিটির রাতেও হয়তো লেখা হবে তেমনই একটি গল্প। প্রশ্ন শুধু একটাই- আর্জেন্টিনা কি অতীতের উদ্বোধনী দুঃস্বপ্ন ভুলে নতুন অভিযানের স্বপ্নময় সূচনা করবে, নাকি আলজেরিয়া বিশ্বকাপের অঘটনের ইতিহাসে যোগ করবে নতুন এক অধ্যায়?