ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে এক বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার পর বিএসএফের গুলিতে ডিপজল আহমদ (২৫) নামে ওই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এক ভারতীয় নাগরিককে ধরে বাংলাদেশে নিয়ে এলেও পরে বিজিবির হস্তক্ষেপে তাকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিঘালী গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলীর ছেলে ডিপজল আহমদসহ ৪-৫ জন যুবক অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ডিপজল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে দাবি করেন তার সঙ্গীরা। অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে এলেও এরপর থেকে ডিপজলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রথমদিকে বিএসএফ বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে বিজিবি ১৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এদিকে ডিপজলের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে ভারতের শ্রীভূমি জেলার রাজারটিলা জিপির কিন্নখাল এলাকার বাসিন্দা রঞ্জিত দাস (৬০) নামে এক ভারতীয় কৃষককে সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকা থেকে কয়েকজন যুবক ধরে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সীমান্তের ওপারেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে রঞ্জিত দাসকে অক্ষত অবস্থায় ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জকিগঞ্জের বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু জানান, পতাকা বৈঠকে ভারতীয় নাগরিককে ফেরত দেওয়ার সময় ডিপজল গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিএসএফের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তখন তারা বিষয়টি অস্বীকার করলেও বুধবার দুপুরে ডিপজলের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে মরদেহ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘লোকমুখে শুনেছি, একজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে নিয়ে আসার খবরও পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে।’