প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৬ ২২:১৩ (বৃহস্পতিবার)
মেসির লাল কার্ড বিতর্ক!

আলজেরিয় অধিনায়ককে পিছন থেকে ট্যাকল করার দৃশ্য (ছবি: সংগৃহীত)

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে তিনটি গোলই করেছেন অধিনায়ক মেসি। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল না তাঁর হ্যাটট্রিক, বরং ছিল একটি বিতর্কিত ট্যাকল।

ম্যাচের ৩১তম মিনিটে আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির ওপর পেছন দিক থেকে একটি কঠোর চ্যালেঞ্জ করেন মেসি। বল তখন মান্দির নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসির বুট মান্দির ডান পায়ের কাফ ও অ্যাকিলিস টেন্ডনের অংশে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আলজেরিয়ান অধিনায়ক।

অবাক করার বিষয়, পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক শুধু ফাউলও দেননি, মেসিকে কোনো কার্ডও দেখাননি। এমনকি ভিএআর থেকেও রিভিউয়ের কোনো আহ্বান আসেনি।

এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।

ইএসপিএনের বিশ্লেষক ও সাবেক ফুটবলার আলেহান্দ্রো মরেনো সরাসরি বলেন, ‘এটি শতভাগ লাল কার্ডের ঘটনা ছিল। রিপ্লে দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ট্যাকল।’

মরেনোর মতে, পেছন থেকে প্রতিপক্ষের কাফ ও গোড়ালির ওপর স্টাড লাগানো বর্তমান ফুটবল আইনে ‘সিরিয়াস ফাউল প্লে’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যার শাস্তি সরাসরি লাল কার্ড।

একই মত প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক ডিফেন্ডার নেদুম ওনুওহা। তাঁর ভাষায়, ‘মেসির মুখভঙ্গিই বলে দিচ্ছিল তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কী করেছেন। আমি মনে করি ঘটনাটি লাল কার্ড পাওয়ার মতোই ছিল।’

ফিফার আইন কী বলে?

ফুটবলের আইন প্রণেতা সংস্থা আইএফএবির (IFAB) ‘Laws of the Game’ অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন ট্যাকল করেন অথবা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে সেটি ‘Serious Foul Play’ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং সরাসরি লাল কার্ডের শাস্তি দেওয়া যায়।

মেসির ট্যাকলের ক্ষেত্রে বিতর্কের মূল জায়গা এখানেই। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তিনি বল খেলার চেয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করেছেন বেশি। ফলে রেফারি চাইলে ভিএআর দেখে লাল কার্ড দিতে পারতেন।

শুধু মেসিই নন, বিতর্ক ছিল আরও কয়েকটি ঘটনায়

ম্যাচে উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কয়েকবার উত্তেজনা দেখা যায়। আলজেরিয়ার কয়েকজন ডিফেন্ডারও মেসিকে থামাতে একাধিক শক্ত ট্যাকল করেন। তবে সেগুলো অধিকাংশই ছিল হলুদ কার্ডযোগ্য ফাউল। কোনো ঘটনাই মেসির ট্যাকলের মতো সরাসরি লাল কার্ড বিতর্ক তৈরি করতে পারেনি।

ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় অংশের মত, ম্যাচে সম্ভাব্য লাল কার্ডের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ছিল মেসির ওই চ্যালেঞ্জ। অন্য কোনো ঘটনায় রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে এতটা প্রশ্ন ওঠেনি।

শেষ পর্যন্ত মেসি মাঠে ছিলেন, হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন। আর্জেন্টিনা পায় স্বস্তির জয়। কিন্তু ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনা বলছে, ভিএআর যুগেও কীভাবে এমন একটি চ্যালেঞ্জ পুনর্বিবেচনার বাইরে থেকে গেল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকের নায়ক হয়েও তাই মেসিকে ঘিরে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনার ঢেউও বইছে। অনেকের মতে, সিদ্ধান্তটি অন্য কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে হলে হয়তো ফল ভিন্ন হতে পারত।