ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ছয় বছর পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে আবারও ‘পরীক্ষা পদ্ধতি’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এর আগে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সারাদেশে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন সরকার। করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে চালু হওয়া সেই পদ্ধতিই গত কয়েক বছর ধরে অনুসরণ করা হচ্ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকের ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে বলছি- এটি নামেমাত্র ভর্তি পরীক্ষা হবে। প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টারে যাওয়ার মতো কোনো প্রশ্ন থাকবে না। একই সময়ে আমরা ক্যাচমেন্ট এরিয়া নিয়ে কাজ করছি। ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয় করে আসনসংখ্যার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। তখন ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি এবং এমন একটি পদ্ধতি চালু করতে চাই, যেখানে ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষা- দুই বিষয় সমন্বিত থাকবে। পরীক্ষাটি শিশুদের জন্য চাপমুক্ত হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় দেশের স্কুলগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা ছিল প্রচলিত নিয়ম। তবে অল্প বয়সে শিশুদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হতো। এর ফলে কোচিং ও প্রাইভেট নির্ভরতা বাড়ার পাশাপাশি ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠত।
এসব বিবেচনায় ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা চালু হয়। পরে করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা শুরু হয়।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আবারও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।