ছবি: সংগৃহীত
সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে দুইজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া শিশুরা হলো- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সজল মিয়ার সাত মাস বয়সী ছেলে সারহান এবং সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উজ্জ্বল মিয়ার পাঁচ মাস বয়সী ছেলে আহিয়ান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, “হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগে মোট ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।”
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৩২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৭৮ জন, সিলেট জেলায় ১০৭ জন, হবিগঞ্জে ২৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জে আক্রান্তদের মধ্যে দুইজনের শরীরে রুবেলাও শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৯ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৬১ জন রোগী।
জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেট জেলায় সন্দেহজনক হামে ২৭ জন এবং নিশ্চিত হামে ২ জনসহ মোট ২৯ জন, সুনামগঞ্জে ৩১ জন, মৌলভীবাজারে ১০ জন এবং হবিগঞ্জে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৭২ জন এবং নিশ্চিত হামে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।
হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।