সিলেটে টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্লাবনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ। এরপর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৩৫ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এর প্রভাব সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের নদ-নদীতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, এই বৃষ্টিপাত আরও অন্তত কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম। তিনি বলেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দু এক দিনের মধ্যে নদীগুলোর একাধিক পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১২ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। সিলেট পয়েন্টে পানি রয়েছে ৯ দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশীদ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার এবং শেওলা পয়েন্টে ১০ দশমিক ৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার নিচে থাকলেও দ্রুত বাড়ছে।
এছাড়া সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিও একইভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী তিন থেকে চার দিন সিলেট বিভাগ এবং এর উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্টরা।
রোববার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১৪২ মিলিমিটার। দুপুর পর্যন্তও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজানে বিশেষ করে মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হলে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।