ছবি: সংগৃহীত
চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিট ১ লাখ ৮ হাজার ১৮২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৭৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়লেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, একই সময়ে বেসরকারি খাত ব্যাংক থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা কম ঋণ পেয়েছে। ফলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যখন ব্যাপক হারে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তখন ব্যাংকগুলোর তহবিলের বড় অংশ সরকারি ঋণে ব্যবহৃত হয়। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থনীতির ভাষায় এ পরিস্থিতিকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়, যা বেসরকারি বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। তবে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই প্রথম ১০ মাসে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৮ হাজার ১৮২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।