ছবি: কিয়ার স্টারমার।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২২ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে দেশটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে।
পদত্যাগের পর লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে স্টারমার বলেন, তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সৌজন্যের সঙ্গে মেনে নিচ্ছেন এবং তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবেন।
বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে পদত্যাগ করতে হলো।
দলীয় একটি সূত্র জানায়, গত সপ্তাহজুড়ে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—এ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন স্টারমার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রের ভাষ্য, ‘স্টারমার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভাবতে পছন্দ করেন।’
গত কয়েক মাস ধরেই তার ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে শুক্রবার (১৯ জুন), যখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান।
উপনির্বাচনে তিনি নাইজেল ফারাজের সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা রিফর্ম ইউকে-সমর্থিত প্রার্থীকে হারানোর ঘটনাটি ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বার্নহ্যামের এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের ধারণা, দক্ষ যোগাযোগ ক্ষমতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে বার্নহ্যাম দলের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারেন। অন্যদিকে, স্টারমারের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছিল।
তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও ব্রিটেনের সামনে থাকা সংকট সহজে কাটবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বার্নহ্যাম জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানাননি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্বকে একদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে হবে, অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে। বর্তমানে উচ্চ ঋণের বোঝা, সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয়, দীর্ঘদিনের ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর চাপ এবং প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ব্রিটেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে বার্নহ্যাম বলেছিলেন, ব্রিটেনকে ‘বন্ড বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে বিনিয়োগকারী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব বাজারকে আশ্বস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্টারমারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন নজর সবার—কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী এবং কীভাবে তিনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন।