প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৬ ১৮:৫২ (মঙ্গলবার)
১৪ দিনেই ব্যবসা শুরু করার সুযোগ, জুলাইয়ে নতুন ঘোষণা: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, আগে একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ শীর্ষক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সঠিক পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে। ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করাই সরকারের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এ সময়কে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করা, উৎপাদন খাতের বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির যে কথা বলা হয়েছে, তা কেবল অলংকারমূলক শব্দ নয়; বরং সরকারের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা কমানো এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, আইন ও নীতিমালা প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই একটি দেশ দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে। বাংলাদেশ সরকারও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও জানান তিনি। এই সেল সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে কাজ করবে।

ফোরামের সুপারিশ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে দেশকে একটি নির্ভরযোগ্য উৎপাদন ও সোর্সিং কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ একমত।

তিনি জানান, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোথায় সময় কমানো সম্ভব এবং কোথায় প্রক্রিয়াগত পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপ রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এসব সংস্কার বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।