ছবি: আনোয়ার হোসেন রনি।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট, নতুন বাজার প্রবেশমুখ এবং গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে এসব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ময়লার স্তূপে আটকে থাকা পচা পানি ও বৃষ্টির পানির কারণে সড়কগুলো যেন ছোট ছোট জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ পড়ে আছে। বিশেষ করে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট এবং নতুন বাজারের প্রবেশমুখে প্রায় একশ ফুট এলাকাজুড়ে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটু পানি জমে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় চালক শাহীন জানান, গোবিন্দগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা এনে সড়কের পাশে ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে ড্রেন ও নালা ভরাট হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে এসব ড্রেন দিয়ে পানি নামতে না পারায় পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অনেক দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে ক্ষয়ক্ষতিরও সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জমে থাকা হাঁটুসমান পানির কারণে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ময়লা মিশ্রিত পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে নাকে রুমাল চেপে দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে দেখা গেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার স্তূপ এবং জলাবদ্ধতা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, বৃষ্টির সময় দ্রুতগতিতে চলা যানবাহনের চাকায় পচা পানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। ময়লার স্তূপে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য থাকায় সেখানে কুকুর, গরু ও অন্যান্য প্রাণীর আনাগোনা বেড়েছে। ফলে পরিবেশ আরও নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।
গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন রেলপথ ও সড়কের দু’পাশেও বিশাল ময়লার স্তূপ দেখা গেছে। এসব স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে অপসারণ না হওয়ায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এভাবে জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. অনিক সোম বলেন, ‘ময়লার স্তূপে জন্ম নেওয়া মাছি খাবারের উপর বসে বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া জমে থাকা দূষিত পানি মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্রুত ময়লা অপসারণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি।’
এ ব্যাপারে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গোবিন্দগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘গোবিন্দগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ও জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বৃষ্টির সময় হাঁটু পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।’
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কের পাশে অবৈধভাবে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ব্যবস্থা চালু না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সচেতন মহলের মতে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় গোবিন্দগঞ্জ এলাকার জলাবদ্ধতা ও ময়লার ভাগাড় জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।