কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় সিলেটসহ সারাদেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর প্রবেশপথসহ ঢাকা জুড়ে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রাম এই ছয় জেলায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং অন্যান্য জেলায় প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্ভাব্য অপতৎপরতা ঠেকাতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে এই সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা দেখা যাওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর জারি হওয়া অধ্যাদেশ এবং পরবর্তী সময়ে সংসদে পাস হওয়া সংশোধনীর মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাদের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটির নেতাকর্মীদের কিছু তৎপরতা নতুন করে নজরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর মনে করছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে বাধা সৃষ্টি হলে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সেনা মোতায়েনের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেআইনি মিছিল, শোডাউন বা সহিংসতার মাধ্যমে নাশকতা সৃষ্টি হলে জানমালের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে, তাই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জরুরি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাজধানীতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।