প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২৬ ১৩:২০ (বুধবার)
কবর থেকে সালমান শাহ’র মরদেহ উত্তোলনে নির্দেশ বাতিল

চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর মৃত্যুর ‘হত্যার প্রকৃত কারণ’ উদঘাটনের লক্ষ্যে কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের পূর্বের আদেশ বাতিল করেছেন আদালত। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান।

মামলার বাদী ও সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম কবর থেকে লাশ উত্তোলনের অনুমতির আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোর্শেদ গত ২০ মে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুনরায় লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন আদালত, যা পরে ১০ জুন প্রকাশ্যে আসে।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহ’র সঙ্গে দেখা করতে যান তার স্বজনরা। তখন তার স্ত্রী সামীরা হক ও গৃহকর্মী জানান, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফোনে জানানো হয়, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হযরত শাহজালাল মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় সেদিনই রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়।

পরবর্তীতে গত বছরের ২১ অক্টোবর মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও কয়েকজন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

এর আগে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক গত বছরের ২০ অক্টোবর রিভিশন মঞ্জুর করে অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। তবে মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।