প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২৬ ২০:৩৬ (বুধবার)
সিলেটে আলোচিত ফাহিমা হত্যা মামলার আসামিকে আদালত প্রাঙ্গণে গণপিটুনি

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে আদালতে নেওয়ার সময় গণপিটুনি দিয়েছে উত্তেজিত জনতা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফাহিমা হত্যা মামলার পূর্বনির্ধারিত তারিখে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে হাজতখানা থেকে আদালত কক্ষে নেওয়ার সময় উপস্থিত জনতা পুলিশের সামনেই তাকে মারধর করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে, বহুল আলোচিত এই মামলায় ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ছাড়াও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে।

নিহত ফাহিমা আক্তার সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। প্রধান আসামি জাকির হোসেন একই গ্রামের পশ্চিমপাড়া ধনরায়ের চক এলাকার বাসিন্দা এবং ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা।

তদন্তে জানা যায়, গত ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। পরে জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ প্রথমে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে মরদেহ বাড়ির পেছনে সরিয়ে রাখা হয়। দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে ডুবে না যাওয়ায় ডোবার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর ৮ মে ভোরে স্থানীয়রা ডোবার পাশ থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর ১১ মে রাতে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এই হত্যাকাণ্ড সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।