প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৮ (বুধবার)
সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন নিয়ে যে বার্তা দিলেন সিসিক প্রশাসক

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার ওপরই জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের সফলতা নির্ভর করে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হলে আগের মতো এবারও কর্মসূচি সফল হবে এবং যে কোনো মূল্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (২৪ জুন) নগরভবনের সভাকক্ষে আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত পরিকল্পনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ক্যাম্পেইন সফল করতে ব্যাপক প্রচারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। গণমাধ্যমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মী, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নির্ধারিত দিনে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি জুমার খুতবায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরে মুসল্লিদের সচেতন করতে নগরীর মসজিদগুলোর ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আরও বলেন, সিলেট নগরীতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস এবং নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় বিশিষ্টজনদের পরামর্শ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যখাত ছাড়াও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন সাফল্য অর্জন করছে এবং এতে নগরবাসীর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এজন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, ইউনিসেফ বাংলাদেশের সিলেট অফিসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মির্জা ফজলে এলাহী, সিলেট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার পাল এবং ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি হাবীব আহমদ শিহাব।

সভায় সিসিকের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবুল ফজল খোকনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, মেরিস্টোপস ক্লিনিক, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সীমান্তিক সিলেট, সুখের হাসি, এসএসকেএস, রোভার স্কাউট এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাতকানা প্রতিরোধে দেশে নিয়মিতভাবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। বছরে সাধারণত দুইবার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং নির্ধারিত অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হবে।