প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২৬ ১৮:৪৯ (বুধবার)
বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

ছবি: সংগৃহীত

উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন পানি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বুধবার (২৪ জুন) বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সবকটি পয়েন্টেই নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৬টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ছিল ১১ দশমিক ৬০ মিটার। বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৯৬ মিটারে। এ পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার।

একইভাবে সিলেট পয়েন্টে সকাল ৬টায় সুরমার পানি ছিল ৯ দশমিক ৪৩ মিটার, যা বিকেল ৩টায় বেড়ে ৯ দশমিক ৫৮ মিটারে পৌঁছায়। এখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার।

কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৪২ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে ১৩ দশমিক ৭৬ মিটারে পৌঁছে। তবে দুপুর ১২টা ও বিকেল ৩টার তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এ পয়েন্টেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এখানে বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৪০ মিটার।

শেওলা পয়েন্টে সকাল ৬টায় কুশিয়ারার পানি ছিল ১১ দশমিক ১৯ মিটার, যা বিকেল ৩টায় বেড়ে ১১ দশমিক ৬৯ মিটারে পৌঁছায়। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৫০ মিটার।

ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ১০ মিটার, বিকেল ৩টায় তা বেড়ে ৯ দশমিক ১৮ মিটার হয়। এখানে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৪৫ মিটার। অন্যদিকে শেরপুর পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৪০ মিটার, যা বিকেল ৩টায় বেড়ে ৭ দশমিক ৪৬ মিটারে দাঁড়ায়। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার।

এদিকে সিলেটের পাহাড়ি নদী সারিগোয়াইন, পিয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিতেও ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও পানি বাড়ছে, আবার কোথাও কমছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে আষাঢ় মাস চলমান। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে সাধারণত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাসেও সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের আসাম ও মেঘালয়েও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতার ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। তবে বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি না হলেও টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।