প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২৬ ২১:২৫ (বুধবার)
পে-স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত

ছবি: সংগৃহীত

নবম জাতীয় পে স্কেল প্রবর্তনের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট পে কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা শেষে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সরকার।

বুধবার (২৪ জুন) পে স্কেলের বাস্তবায়ন রূপরেখা নির্ধারণে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত মতৈক্যে পৌঁছানো গেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ দুই খাতের সুপারিশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা কত ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে- এ বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা থেকে তারাও বঞ্চিত হবেন না।

সরকার ইতোমধ্যে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করা হবে। তবে বর্ধিত বেতনের অর্থ চাকরিজীবীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। দ্বিতীয় বিকল্পে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক বেতন শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে বেসিক বেতনের চূড়ান্ত বৃদ্ধি কত শতাংশ হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটির বৈঠক শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পরই নবম জাতীয় পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রকাশ করা হতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে দেশের লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।