প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৬ ১৯:০৪ (বৃহস্পতিবার)
বিমানবন্দরের কার্গো জট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবার কার্যক্রম সীমিত থাকায় জমে থাকা কার্গো কমছে না। তাই স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট ও এর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর কোনো গুদাম বা সংরক্ষণাগার নয়; এটি মূলত পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট পয়েন্ট। বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় কার্গো বিমানবন্দরে আটকে থাকলে জট সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দরের বাইরে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন পৃথক ‘কার্গো ভিলেজ’ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ বছরের চাহিদা মাথায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। হ্যাজার্ডাস, নন-হ্যাজার্ডাস, ফাস্ট-মুভিং ও স্লো-মুভিং পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে কার্গো পরিচালনা আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে প্রতিদিন বিমানবন্দরে যে পরিমাণ কার্গো আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাস হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সীমিত কার্যক্রম এ সমস্যাকে আরও জটিল করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের সমাধান নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের প্রথম পরিচয় ঘটে বিমানবন্দরের সেবা ও পণ্য খালাস ব্যবস্থার মাধ্যমে। তাই এ অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হওয়া উচিত নয়।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ কমানো সম্ভব। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে আলোচনার পথ বেছে নিতে হবে, কর্মবিরতি বা হুমকির পথ নয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়বে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।