ছবি: আহমাদুল কবির।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সিবিশন (এটেক্স) ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে এ অংশগ্রহণকে নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়াসহ বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।
কাইজার এক্সিবিশনস অ্যান্ড কনফারেন্সেসের আয়োজনে ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সার্বিক সহযোগিতায় অংশ নিয়েছে নামিরাহ অ্যাপারেলস লিমিটেড, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), স্টিচ (বিডি) নিটওয়্যার লিমিটেড এবং সামার ফ্যাশন লিমিটেড।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বুথগুলোতে দেশের বিশ্বমানের নিটওয়্যার, তৈরি পোশাক, বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন পণ্য এবং আধুনিক উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বিশ্বের ছয়টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে, যা বৈশ্বিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২৫ জুন অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, রয়্যাল হাইনেস ইয়াং আমাত মুলিয়া হাজাহ শরিফাহ কাত্রিনা নুরানিয়াহ জামালুলাইল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ম্যাট্রেড এর ডেপিউটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (এক্সপোর্ট অ্যাকসেলারেশন) এস. জয় শঙ্কর সুপ্পাইয়াহ, আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার অ্যান্ডি পোহসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বাংলাদেশের বুথসমূহ পরিদর্শন করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সাফল্য, উচ্চমানের পণ্য, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব কারখানা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সহযোগিতা, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও মতবিনিময় করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া ও বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আরও বৃদ্ধি, নতুন ক্রেতা সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় এটেক্স ২০২৬-এর মতো আন্তর্জাতিক বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) সোর্সিং মেলায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ শুধু দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং মালয়েশিয়াসহ আসিয়ান অঞ্চলে নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য এটেক্স ২০২৬ তাই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের এক অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠেছে।