ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তবে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ এককভাবে নিজেদের মাটিতে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু গিলিয়ানো।
বর্তমান বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করছে দেশটি।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু গিলিয়ানো বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে যদি ৬৪টি দলও অংশ নেয়, তবুও সফলভাবে সেই আসর আয়োজন করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের বিড নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে আমরা চলমান বিশ্বকাপটি সফলভাবে ও নির্বিঘ্নে শেষ করতে চাই।’
বর্তমানে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। তবে ফিফা ভবিষ্যতে, সম্ভবত ২০৩০ সালের পর, অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪ করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
এরই মধ্যে ২০৩০ ও ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। অন্যদিকে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের একক আয়োজক সৌদি আরব।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হলে তা ফিফার জন্যও ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হবে। বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া বাজার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বেশি। এরই অংশ হিসেবে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংস্থাটির আইন বিভাগ সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্থানান্তর করেছেন।
অ্যান্ড্রু গিলিয়ানো আরও বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। কারণ দেশটিতে প্রয়োজনীয় স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। তার ভাষায়, ‘যেখানে অন্য দেশগুলোর হাজার কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়, সেখানে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র কয়েক বিলিয়ন ডলার।’