প্রকাশিত : ২৮ জুন, ২০২৬ ২২:২৯ (সোমবার)
রাম মন্দিরের দানবাক্সে চুরি: চুরির টাকায় আয়েশি জীবন

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় অর্থপাচারের উৎস অনুসন্ধানে তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ। মামলার মূল আট অভিযুক্তের বাড়িতে রোববার (২৮ জুন) সকালে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন সাক্ষী দলের উপস্থিতিতে এ তল্লাশি পরিচালনা করা হয়। গত সপ্তাহে সিসিটিভি ফুটেজে চুরির প্রমাণ পাওয়ার পর মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা আট কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রাম শঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রমাশঙ্কর ওরফে তিন্নু যাদব। তারা সবাই মন্দিরের দানবাক্সে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ গণনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

দুই দিন আগে স্থানীয় একটি আদালত তাদের সোমবার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে সোমবার তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করে হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত চার বছরে অভিযুক্তরা কী পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন, তার বিস্তারিত তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষভাবে জমি, স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও অভিযুক্তদের আর্থিক অবস্থার আকস্মিক পরিবর্তন, বিলাসী জীবন যাপন, নতুন গাড়ি বা সম্পত্তি কেনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে তদন্তকারীরা।

অভিযান চলাকালে তিন্নু যাদব ও মনীশ কুমার যাদবের পরিবার পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্রের খালা নেহা মিশ্র জানিয়েছেন, আগে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল সাধারণ। কিন্তু অনুকল্প রাম মন্দির ট্রাস্টে চাকরি শুরু করার পর থেকেই তাদের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মন্দিরের দানবাক্সের হিসাব থেকে প্রায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। তবে রোববারের অভিযানে নতুন করে কোনো অর্থ উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্ত দলের (এসআইটি) প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই এ মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চুরির ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।