ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহাসিক রোজ বোল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
নকআউট পর্ব হওয়ায় কোনো ভুলের সুযোগ নেই। হারলেই শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ অভিযান। তাই সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
পরিসংখ্যান, ফিফা র্যাঙ্কিং এবং অতীতের রেকর্ড ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে সাফল্য ম্যাচটিকে করে তুলেছে বেশ আকর্ষণীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত পাঁচটি কারণে ব্রাজিলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান।
জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর কৌশল। কম বল দখলে রেখেও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারদর্শী তার দল। ২০২২ বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে জাপানের ঐতিহাসিক জয়ে এই কৌশলই বড় ভূমিকা রেখেছিল।
বর্তমান জাপান দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা ফুটবলারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। রিয়াল সোসিয়েদাদের তাকেফুসা কুবো, মোনাকোর তাকুমি মিনামিনো, স্টুটগার্টের রিতসু দোয়ানসহ অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত খেলছেন। ফলে ব্রাজিলের তারকাদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা রয়েছে।
মাঝমাঠে ওয়াতারু এনদো এবং আও তানাকার নিরবচ্ছিন্ন প্রেসিংও হতে পারে ব্রাজিলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পুরো ম্যাচজুড়ে তাদের উচ্চ গতির চাপ ব্রাজিলের বিল্ড-আপ খেলায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
সেট-পিস থেকেও জাপান বেশ কার্যকর। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গোল এসেছে কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে। জুনিয়া ইতো ও তাকেফুসা কুবোর নিখুঁত ক্রস এবং কো ইতাকুরা ও হিরোকি ইতোর মতো লম্বা ডিফেন্ডারদের হেডিং দক্ষতা ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
এ ছাড়া জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত ফুটবল। নির্দিষ্ট কোনো তারকার ওপর নির্ভর না করে পুরো দল মিলে আক্রমণ গড়ে তোলায় প্রতিপক্ষের জন্য তাদের পরিকল্পনা ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখলেও নকআউটের এই লড়াইয়ে জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। রোজ বোলের লড়াইয়ে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে এশিয়ান দলটির সব শক্তির বিপক্ষেই সতর্ক থাকতে হবে।