ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী থেকে প্রাইভেট পড়তে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে সিলেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের একদিন পর বুধবার (২০ নভেম্বর) তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে তিনজন দশম শ্রেণি ও একজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, কদমতলী বাস টার্মিনালের ওয়েটিং রুমে চার কিশোরের সন্দেহজনক অবস্থানের খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল। মঙ্গলবার প্রথমে দিনাজপুর গিয়ে সেখান থেকে সন্ধ্যাবেলা সিলেটগামী ‘সাগরিকা পরিবহণ’-এর একটি বাসে ওঠে তারা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তারা আর ফেরেনি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাদের সন্ধান না পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) স্নেহাশীষ কুমার দাস জানান, জিডি হওয়ার পরপরই প্রযুক্তির সহায়তায় একটি মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সিলেট পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের হেফাজতে নেয়।
তবে এই নিখোঁজের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা পাচারচক্রের যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এএসপি স্নেহাশীষ কুমার দাস আরও জানান, মাস দশেক আগে এই উপজেলারই এক কিশোরী গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই চার শিক্ষার্থীও কোনো মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়েছিল কি না, সে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ঠাকুরগাঁও নিয়ে আসার পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।