প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২৮ (শনিবার)
সিলেটে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার শঙ্কা: বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

সিলেটের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, উচ্চ মেঘনা অববাহিকার পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদীর পানি সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। জুলাই ও আগস্ট মাসে জলবায়ুগত কারণে দেশে বন্যার ঝুঁকি এমনিতেই বেশি থাকে। এ সময় ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় উজানের পানির চাপে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৮৮, ১৯৯৮ এবং ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যাগুলো এই জুলাই-আগস্ট মাসেই সংঘটিত হয়েছিল। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার পানি যখন একসাথে বাড়ে, তখন পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যাও এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যেখানে কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর ১০ থেকে ১৫ দিন আগের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে যা দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় দেশের অন্যান্য কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থাকলেও আগামী ৫-৬ দিনে সেখানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে সিলেটের ক্ষেত্রে আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেঘনা অববাহিকায় উজান থেকে পানি নেমে এলে কিংবা বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও প্রবল হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের প্রতিরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।