প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৮ (শনিবার)
ভ্যাকসিন শিল্পে বড় সম্ভাবনার কথা জানালেন সিকৃবি ভিসি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ, পোল্ট্রি ও মৎস্য খাতে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিনের বাজার থাকলেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মিলিয়ে দেশে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন উৎপাদিত হয়। অপরদিকে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনুজীব বিজ্ঞানী এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম শুক্রবার (৩ জুলাই) ব্র্যাক-সিডিএমে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে প্রাণিসম্পদ, পোল্ট্রি এবং হিউম্যান ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে ‘এন্টারপ্রিনিউর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ভ্যাকসিনের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে গবাদিপশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD), ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (FMD) এবং প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের অন্যান্য রোগ মোকাবিলায় দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ড. আলিমুল ইসলাম বলেন, কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গবেষণাগার ও পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আলোচনা সভায় কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও ফলাফল বিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. টিম ইভান্স বলেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হলে কানাডার ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে জাস্ট সাস্টেইনিবিলিটি বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক সাকিব আল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দেশীয় গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে প্রাণিসম্পদ, পোল্ট্রি, মৎস্য এবং মানবস্বাস্থ্যের ভ্যাকসিন উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।