প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০০ (রবিবার)
সুনামগঞ্জে কৈতক হাসপাতালের জমি রক্ষার আন্দোলন: 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার' দাবি

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কৈতক হাসপাতালের সরকারি জমি রক্ষার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় কারামুক্তির পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম। তিনি মামলাটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেছেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহিম বলেন, ‘কৈতক হাসপাতালের সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও প্রতিবাদ চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘কারাভোগ করতে হলেও সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি এবং ভবিষ্যতেও অন্যায়, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একইভাবে সোচ্চার থাকবেন। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।’

আবেগঘন বক্তব্যে আব্দুর রহিম বলেন, ‘কারাগারে কাটানো প্রতিটি দিন ছিল তার এবং তার পরিবারের জন্য কঠিন পরীক্ষার সময়। তবে এলাকার সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, দলীয় নেতাকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং আইনজীবীদের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে পেরেছেন।’

কারামুক্তির পর পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বিশেষভাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন, ছাতক উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জাউয়াবাজার ইউনিয়ন ও কৈতক গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ এবং মামলার আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতাকারী সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘তাঁদের নৈতিক সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া তাকে কঠিন সময় অতিক্রমের সাহস যুগিয়েছে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি তার আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাউয়াবাজার ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস ছালাম নোমান, সেলিম আহমদ, সাবেক ইউপি সদস্য এস. এম. মাহমুদ, যুবদল নেতা ছায়াদ মিয়া, কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাদির মিয়া, যুবদল নেতা আব্দুল লতিফ ও বুরহান উদ্দিন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কৈতক হাসপাতালের সরকারি জমি রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই আব্দুর রহিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এ সময় কৈতক গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি একলাছ মিয়া, ইমান আলী ও ফয়েজ আলীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হাসপাতালের সরকারি জমি সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, হাসপাতালের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।