প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩১ (মঙ্গলবার)
মালয়েশিয়ায় ‘কেস বাই কেস’ অনুমোদন বাতিল: বিশেষ বিবেচনার সুযোগ শেষ

মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নিয়োগে দীর্ঘদিনের ‘কেস বাই কেস’ ভিত্তিক কোটা অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাতিল করেছে। এখন থেকে সব আবেদন বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এর ফলে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো, ব্যক্তিগত তদবির কিংবা বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ আর থাকবে না।

দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান সোমবার কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওয়ান-স্টপ সেন্টার ফরেন ওয়ার্কার ম্যানেজমেন্ট সেন্টার-এর কার্যক্রম এখন থেকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে এবং এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

রামানান বলেন, বিদেশি কর্মী কোটার সব আবেদন এখন থেকে  ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) এর ই-কোটা মডিউলের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিতে হবে। কোনো ধরনের বিশেষ বিবেচনা বা ব্যক্তিগত অনুমোদনের সুযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, এখন আর ‘কেস বাই কেস’ পদ্ধতি নেই। সবাইকে সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। দ্রুত অনুমোদন বা অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার জন্য মন্ত্রী বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন নেই। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে।

মন্ত্রী জানান, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর ফলে নিয়োগকর্তাদের আর শারীরিকভাবে অফিসে গিয়ে সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহ বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আগে বিশেষ করে জোহর, কেদাহসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে নিয়োগকর্তারা কুয়ালালামপুরে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন। অনেক ক্ষেত্রেই সিরিয়াল শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের আবার ফিরে আসতে হতো।

নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তারা অনলাইনে আবেদন করলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাক্ষাতের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে দেবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর ওয়ান-স্টপ সেন্টার আবেদন মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

রামানান বলেন, নতুন অ্যালগরিদমভিত্তিক ব্যবস্থা আবেদনকারীর পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করবে। এতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি বারবার সাক্ষাতের সময় নিয়ে উপস্থিত না হন, তাহলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করবে। কারণ এতে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা অন্য নিয়োগকর্তাদের সুযোগ নষ্ট হয়।

বিদেশি কর্মী নিয়োগে অতীতে কথিত সিন্ডিকেট বা কার্টেলের প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ফলে অনিয়ম ও কারসাজির সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে, কারণ পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট ২২ হাজার ৪৭৬টি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।