ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারিং বিতর্ক যেন থামছেই না। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে ফরাসি রেফারি দায়িত্ব পালন করায় যে বিতর্কের জন্ম হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ফিফা। কারণ, কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স–মরক্কো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেয়োকে। শুধু তাই নয়, তার সঙ্গে পুরো অন-ফিল্ড ও ভিডিও ম্যাচ অফিসিয়াল (VAR) টিম মিলিয়ে মোট পাঁচজনই আর্জেন্টিনার।
আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশরের পাশাপাশি আর্জেন্টিনাতেও সমালোচনা হয়েছিল। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ ছিল, ফ্রান্সের একজন রেফারিকে তাদের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করে। সেই সমালোচনার পর এবার ফ্রান্সের ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগ দিয়ে ফিফা যেন উল্টো আরেকটি বিতর্কের দরজা খুলে দিল।
ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আর শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে আর্জেন্টিনার পাঁচজন ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়োগ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে; ফিফা কি সত্যিই নিরপেক্ষতার বার্তা দিতে চেয়েছে, নাকি এক বিতর্কের জবাবে আরেক বিতর্ক তৈরি করেছে?
রেফারিদের পেশাদারিত্ব নিয়ে সন্দেহ করার সুযোগ না থাকলেও, আধুনিক ফুটবলে 'স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনাও এড়িয়ে চলা' একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। তাই শুধু নিরপেক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়, নিরপেক্ষ দেখানোও জরুরি। ফিফার মতো সংস্থার কাছ থেকে সেটিই প্রত্যাশা করে ফুটবল বিশ্ব।
৪৪ বছর বয়সী ফাকুন্দো তেয়ো দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি। কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালসহ বহু বড় ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এবারের বিশ্বকাপেও তিনি দুটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, এই নিয়োগের সময় ও প্রেক্ষাপটই বিতর্ককে উসকে দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রতিটি সিদ্ধান্তই কোটি কোটি দর্শকের নজরে থাকে। তাই রেফারিদের যোগ্যতার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করা ফিফার দায়িত্ব। অন্যথায় মাঠের খেলার চেয়ে রেফারি নিয়েই আলোচনা বেশি হবে, যা বিশ্ব ফুটবলের জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।